নাম, ভাষা ও ব্যাকরণ

আমাদের মনের মানচিত্রে ধারণাগুলোর সংখ্যা যখন বাড়তে থাকে তখন প্রতিটা ধারণার একটা করে নাম (name) দিতে হয়। যেমন গণি ও গানের সংসারের ধারণার নাম আমরা তাদের নামেই “গণি ও গানের সংসার” রাখতে পারি। খেয়াল করলে বোঝা যাবে আমাদের দেয়া ধারণাগুলোর নাম কিন্তু প্রত্যেকটা অন্যগুলো থেকে আলাদা আলাদা হতে হবে। না হলে পরে কখনো আমরা যখন একটা ধারণা নিয়ে ভাবতে যাবো, তখন অন্যটার কথা সেটার সাথে মিশে যাবে। পরিচয়বোধক ধারণাই হোক আর পরিমানবোধক ধারণাই হোক, আমাদের সকল ধারনার একটা করে আলাদা আলাদা নাম দিতে হবে একটাকে স্রেফ আরেকটা থেকে আলাদা করার জন্যই। একই নাম দুটো ধারণার জন্য দেয়া যাবেনা।

ধারণার জন্য নামের দরকার আরেকটা কারণেও। নিজের মনের ভেতরে নিজে নিজে ভাবার পাশাপাশি আমরা চাই একজনের ধারণা আরেক জনের ভেতরে সঞ্চারিত করতে। এজন্যে প্রথমে আমাদের একজনের ধারণাগুলোকে প্রকাশ করতে হবে, তারপর আরেকজনের মনের ভেতরে তা হুবহু তৈরী করতে পারতে হবে। তাহলে দেখা যাচ্ছে ধারণার জন্ম হয় মনের ভেতরে, সেটা নিজের মনের ভেতরেই হোক বা অন্য কারো মনের ভেতরেই হোক। আর সেই ধারণার প্রকাশে আমাদের দরকার হয় নাম।

ধারণা ও নামের আদান প্রদানের একটি উদাহরণ দেখা যাক। একজনের মনের ভেতরের ধারণাগুলো বিভিন্ন নাম নিয়ে আছে। সেই নামগুলো তারপর বাইরে প্রকাশিত হয়। তারপর এই নামগুলোই আবার আরেক জনের মনের মধ্যে গিয়ে এক-একটা ধারণার তৈরী করে। পুর্বোক্ত ব্যক্তির মনের ভেতরের ধারণা প্রকাশের মাধ্যমে সঞ্চারিত হয়ে পরের ব্যক্তির মনের মধ্যে অবিকল তৈরী করতে পারা একটা বিশাল ব্যাপার। সেই বিশাল ব্যাপারটি সম্ভব যার কারণে তা হলো ভাষা (language)। নাম হলো যে কোন ভাষার ক্ষুদ্রতম একক। নামগুলোর বিভিন্ন রকম সমন্বয়ে আমরা শব্দ, বাক্য, বা রচনা পেতে পারি। এই রকম সমন্বয় করার জন্য কিছু নিয়মকানুনের দরকার হয়, যেগুলোকে একত্রে ব্যাকরণ (grammar) বলা হয়। আমরা ধীরে ধীরে গণিত ও গণনার ভাষা ও ব্যাকরণ শিখবো।

(Visited 47 times, 1 visits today)

Leave Comments