গণি ও গানের সংসার

কুকুরুস কুক, কুকুরুস কুক। মোরগের ডাকে রোজকার মতো আজকেও ঘুম ভেঙেছে গণি মিয়ার। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে। টের পেতেই মোরগ-মুরগীগুলোর যেন আর তর সইছে না। মুরগীশালা ছেড়ে বের হবে, তাই এই চিৎকার চেঁচামেচি। গণি মিয়ারও সকাল সকাল বিছানা ছাড়তে হবে। সাথে গানকেও ডেকে তুলতে হবে। অগ্রহায়ণ মাসের এই সময়টাতে কত যে কাজ সারাদিনে! অথচ এই সময়ের দিনগুলো বছরের অন্য সময়ের চেয়ে বেশ ছোটো। দিনের কাজ দিনে শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে শীতের আমেজ থাকায় গায়েও তেমন লাগে না!

গণি ও গানের কৃষক পরিবার। তাদের কয়েক টুকরো জমি আছে। বছরের এই মৌসুমটায় সেই জমিতে তারা ধান চাষ করে। এবারে আমন ধানের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। কয়েকদিন আগে তারা মজুর রেখে ধান কাটিয়েছে। ধানের আঁটিগুলো গাদা করে রাখা হয়েছে উঠানে। এগুলো মেশিন দিয়ে মাড়াতে হবে, তারপর গুদামে ভরতে হবে। এরপর দরকার মতো হাটবারগুলোতে হয় ধান বিক্রি করতে হবে, আর না হয় মাঝে মাঝে সিদ্ধ করে চাউল বানাতে হবে।

গণি ও গানের সংসারে রয়েছে তাদের এক ছেলে গণিত আর এক মেয়ে গণনা, ছেলে মেয়ে দুটি জমজ। কৃষিকাজে আয় রোজগার বেশী না হলেও গণি ও গানের সংসার মোটামুটি সচ্ছল। সব মিলিয়ে বলা যায় পরিপূর্ণ পরিবার, সুখের সংসার। কেবল একটাই অতৃপ্তি, গণি ও গান দুজনের কেউই স্কুলে যেতে পারে নাই, যে করেই হোক ছেলে-মেয়েদের তাই তাদের লেখা-পড়া শেখাতে হবে।

(Visited 10 times, 1 visits today)

Leave Comments